আমিনবাজারে এসআই আলতাফ হত্যা: প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৯।
গ্যারেজ মালিককে মারধরের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী হামলায় গড়ায়। সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন (৫৮) হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে আমিনবাজারের পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জ সদর থানার লঞ্চঘাট এলাকাতেও অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে প্রধান আসামি জহিরুল ইসলামসহ এজাহারে নাম থাকা নয়জন পুলিশের হাতে আসে।
মামলার তদন্তে গ্রেপ্তার জহিরুল ইসলামকে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। অন্য আটজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার আটজন হলেন আলাউদ্দিন (২৬), আপন (৩০), জিহাদ (২০), ইমরান (২৬), নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), রাকিব মিয়া (২৮), ছাব্বির আহম্মেদ (২৪) ও ওয়াসিম (৪০)। র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মাদকসংক্রান্ত তিনটি মামলা রয়েছে।
র্যাব ও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ৫ সেপ্টেম্বর রাতে বরদেশী এলাকায় অটোরিকশা রাখাকে কেন্দ্র করে একটি গ্যারেজের মালিককে মারধরের ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলেন এসআই আলতাফ। এ নিয়ে হামলাকারীদের সঙ্গে তার ও ছেলে আরিফুলের কথা-কাটাকাটি হয়।
বিতণ্ডার পর আলতাফ হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি পুলিশ সদস্য পরিচয় দেওয়ার পরও হামলাকারীরা থামেনি। পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পেতে তিনি ছেলের পোশাক কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন।
সেখানেও শেষ রক্ষা হয়নি। হামলাকারীরা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে কারখানাটিতে ঢোকে। গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের পর দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে আলতাফ ও তার ছেলে আরিফুলকে মারধর করা হয়। হামলার একপর্যায়ে কারখানার মেশিন ও আসবাবপত্রেও ভাঙচুর চালানো হয়।
পরে স্থানীয়রা আহত বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, নয়জনকে গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ঘটনায় জড়িত বাকি ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলছে।

মতামত দিন