জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে শ্রমিকদের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

নাসা গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা কুমিল্লা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং পুনরায় কাজে ফেরার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে পদুয়ার বাজার এলাকায় অবস্থান নিয়ে তাদের বকেয়া বেতনসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, গত বছরের এপ্রিল থেকে নাসা স্পিনিং লিমিটেড, নাসা স্পিনারসসহ নাসা গ্রুপের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন কমাতে শুরু করে। পরে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হলেও অনেক শ্রমিকের কয়েক মাসের পাওনা বকেয়া থেকে যায়। কর্তৃপক্ষ বারবার সময় নিলেও বেতন-ভাতা পরিশোধের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বা সিদ্ধান্ত দেয়নি।

শ্রমিকরা আরও জানান, কিছুদিন আগে কর্তৃপক্ষ নতুন একটি নোটিশ প্রকাশ করে, কিন্তু এতে বকেয়া পরিশোধ সম্পর্কে কোনো স্বচ্ছতা রাখা হয়নি এবং নির্দিষ্ট তারিখও উল্লেখ করা হয়নি। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শ্রমিকেরা জানান, তারা কাজ ফিরে পেতে চান অথবা বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

তানজিলা আকতার নামে এক নারী শ্রমিক বলেন, “আমরা বেতন চাই, পোলাপাইনরা না খেয়ে আছে। নাসা গ্রুপের মালিক আসুক, সমাধান করুক। বেপজার লোকেরা শুধু মিথ্যা সান্ত্বনা দেয়।”

জুয়েল রানা নামে আরেক শ্রমিক বলেন, “ঘর ভাড়া দিতে পারছি না, অনেক দিন চুলায় আগুন জ্বলে না। পাওনা ছাড়া ঘরে ফিরব না।”

কুমিল্লা ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, “শ্রমিকেরা সকাল থেকে বেতন-ভাতার দাবিতে আন্দোলন করছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। ইপিজেড কর্তৃপক্ষ সমস্যার সমাধানে কাজ করছে।”

নাসা গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক মেজর আব্দুল হাফিজ শ্রমিকদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “কোম্পানি বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে, তবে শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার জন্য কৃতজ্ঞ। সমস্যা সমাধানে কাজ চলছে।”

এদিকে, কুমিল্লা ইপিজেডের ব্যবস্থাপক আব্দুল্লাহ আল মাহবুব জানান, “সকাল থেকেই শ্রমিক এবং মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মালিক পক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রায় ২৫ শতাংশ শ্রমিকের বকেয়া বেতন পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজনে আদালতের মাধ্যমে কোম্পানির সম্পত্তি বিক্রি করে অবশিষ্ট শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে।”

মতামত দিন