জাতীয়
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনের হত্যা চেষ্টায় শিরীন শারমিন চৌধুরীর ২ দিনের রিমান্ড চেয়েছে ডিবি।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকার লালবাগ থানায় জুলাই আন্দোলনের সময় আশরাফুল ওরফে ফাহিম নামে এক ব্যক্তিকে হত্যাচেষ্টা মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর ২ দিনের রিমান্ড চেয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটে শিরীন শারমিনকে সাদা মাইক্রোবাসে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়।

সেখানে তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। পরে লালবাগ জোনের কোতোয়ালী জোনাল টিমের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মোহসীন উদ্দীন রিমান্ডের আবেদন করেন। এ বিষয়ে শুনানি হবে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে।

ডিবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের পর শিরীন শারমিন বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপন করে ছিলেন। সর্বশেষ ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছিলেন, সেখান থেকেই তাকে ভোরে আটক করা হয়।

শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটের দিকে লালবাগের আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনকারীরা প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন। সেই সময় দেশী-বিদেশী অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর হামলা চালানো হয়, এবং একটি গুলি আশরাফুল ওরফে ফাহিমের চোখে লাগে। তিনি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় ২৫ মে আশরাফুল শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১১৫/১২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, শিরীন শারমিনের বিরুদ্ধে গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যা মামলাসহ মোট ৬টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে এবং বাকি তিনটি মামলায় তদন্ত চলছে।

গণ–অভ্যুত্থানের পর অনেক আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গত বছরের ২২ মে আশ্রয় গ্রহণকারীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছিল, যেখানে শিরীন শারমিনের নামও ছিল।

২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর, শেখ হাসিনার সরকারের পতনের ২৭ দিন পর শিরীন শারমিন পদত্যাগ করেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর শিরীন শারমিন স্পিকার নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল তিনি এই দায়িত্বে নিয়োগ পান এবং পরবর্তী সময়ে টানা দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ১৫ আগস্ট সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হকও গ্রেপ্তার হন।

মতামত দিন