অর্থনীতি
ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতির আভাসে কমলো তেলের দাম।

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলেছে। এর জেরে সোমবার তেলের দামে কিছুটা পতন দেখা গেছে।

বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি সামান্য কমে ১০৮ ডলারের কিছু উপরে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর মূল্যও কমে ১১০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা এখন সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তবে সরবরাহ ব্যবস্থায় ঝুঁকি রয়ে যাওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি।

গত সপ্তাহে তেলের বাজারে বড় ধরনের ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়। কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হারে দাম বাড়ার পর সাম্প্রতিক এই পতন তুলনামূলকভাবে সীমিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এদিকে, চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি এখনো জটিল। ইরান স্পষ্ট করেছে, তাৎক্ষণিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দ্রুত সমঝোতায় না পৌঁছালে কঠোর পদক্ষেপের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য যে, সংঘাত শুরুর পর থেকেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সীমিত আকারে কিছু জাহাজ চলাচল শুরু করেছে।

পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বজুড়ে তেল শোধনাগারগুলো বিকল্প উৎস খুঁজছে। বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপে জ্বালানির চাহিদা মেটাতে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। ভারতসহ কয়েকটি দেশ তাদের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে সমন্বয় করছে।

অন্যদিকে, তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করলেও বাস্তব পরিস্থিতিতে তা কার্যকর হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার তেল সরবরাহও সাম্প্রতিক হামলার কারণে বিঘ্নিত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে চাপ আরও বেড়েছে।

মতামত দিন