‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্টে আগুনের পর গেট বন্ধ, বিল না দিয়ে বের হতে না দেওয়ার অভিযোগ।
দুই বছর আগে ঢাকার বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪৬ জনের মৃত্যু নিয়ে পুলিশের সিআইডি বৃহস্পতিবার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, রেস্টুরেন্ট ও কফিশপগুলোতে নিরাপত্তাহীনতার কারণে আগুনের সময় মানুষজন প্রাণ হারিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আগুন লাগার পর ‘কাচ্চি ভাই’ রেস্টুরেন্টের প্রধান ফটক বন্ধ রাখা হয়েছিল, যাতে বিল না দিয়ে কেউ বের হতে না পারে। এ কারণে ঘন ধোঁয়ার মধ্যে আটকা পড়ে মানুষ অল্প সময়ের মধ্যেই শ্বাসরোধ এবং আগুনে দগ্ধ হয়ে মারা যান।
ঘটনার দিন, ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি রাত পৌনে ১০টার দিকে ‘চায়ের চুমুক’ কফিশপের ইলেকট্রিক কেটলি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রচণ্ড ধোঁয়া এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ভবনের বিভিন্ন তলায় থাকা মানুষজন দ্রুত বের হতে পারেননি। ভবনের একমাত্র সিঁড়ি আংশিকভাবে বাধাগ্রস্ত ছিল, ছাদেও সীমিত পথ থাকার কারণে ভেতরের মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ভবনটি অনুমোদিত নকশা অমান্য করে নবম তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়েছিল এবং আবাসিক অংশসহ পুরো ভবন বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। অধিকাংশ রেস্টুরেন্ট ও কফিশপের বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা জরুরি নির্গমন পথ ছিল না।
মামলায় ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে রেস্টুরেন্ট ও কফিশপের মালিক, ম্যানেজার এবং ভবন পরিচালনাকারীরাও রয়েছেন। তদন্তে উঠে এসেছে, তারা সরকারি বিধি-নিষেধ অমান্য করে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম বলেন, “মামলার পরবর্তী দিন ধার্য রয়েছে ১৯ এপ্রিল। সাক্ষী হাজির করে বিচার দ্রুত শেষ করা হবে।”
এই ঘটনা প্রমাণ করে, নগরীর অগ্নি নিরাপত্তা ও জরুরি ব্যবস্থার তীব্র ঘাটতি কতটা প্রাণঘাতী হতে পারে।
মতামত দিন