দুবাই বন্দরের বহির্নোঙরে থাকা একটি তেলবাহী জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে, যার পেছনে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) এ ঘটনা ঘটে, তবে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় মঙ্গলবার ভোরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
দুবাই কর্তৃপক্ষ জানায়, জাহাজটিতে ড্রোন আঘাত হানার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে জাহাজটির কাঠামো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি সতর্ক করেছিলেন, প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতে পারে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ ধরনের হামলা নিয়মিত ঘটছে।
ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজটি কুয়েতের ‘আল-সালমি’ নামে পরিচিত, যা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল বহন করছিল। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছিল, যার বাজারমূল্য কয়েকশ কোটি ডলারের সমান।
জাহাজটির মালিক প্রতিষ্ঠান ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ শুরু করেছে এবং সম্ভাব্য পরিবেশগত ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ করছে। তবে জাহাজে থাকা ২৪ জন নাবিক নিরাপদ আছেন এবং কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে হামলার খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা বেড়ে যায়, যদিও পরে তা কিছুটা কমে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ঘটনা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলছে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মতামত দিন