ইসরায়েলের হামলায় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি নিহত।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের শীর্ষ দুই ব্যক্তিকে হত্যার দাবি করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে ইসরায়েল। তবে এসব দাবির বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দাবি করেছেন, ইরানের প্রভাবশালী নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি নিহত হয়েছেন। একইসঙ্গে বাসিজ মিলিশিয়ার প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিকেও হত্যার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাও এ তথ্য তুলে ধরেছে, যদিও স্বাধীনভাবে তা যাচাই করা যায়নি।
আলী লারিজানি ইরানের ক্ষমতাকাঠামোর একজন গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব হিসেবে তিনি দেশটির কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরাসরি ভূমিকা রাখছিলেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার সময়ে তার অবস্থান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
ইরাকের নাজাফে ১৯৫৮ সালে জন্ম নেওয়া লারিজানি একটি প্রভাবশালী পরিবার থেকে উঠে আসেন। তার পরিবারকে একসময় ‘ইরানের কেনেডি পরিবার’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়। শিক্ষাজীবনে তিনি গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়াশোনা করার পর পশ্চিমা দর্শনে পিএইচডি সম্পন্ন করেন, যেখানে তার গবেষণার বিষয় ছিল দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট।
ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি আইআরজিসিতে যোগ দেন এবং পরে সংস্কৃতিমন্ত্রী, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থার প্রধানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে তিনি পারমাণবিক আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পান এবং ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে টানা তিনবার স্পিকার হন। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি অনুমোদনেও তার ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তেহরানে বিমান হামলা চালিয়ে বাসিজ প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিকে হত্যা করা হয়েছে। গত ছয় বছর ধরে তিনি এই বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
তবে এই দুই হত্যার দাবির কোনোটিই এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করেনি ইরান। বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি এই তথ্য সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে এটি চলমান সংঘাতে বড় ধরনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগেও সংঘাতের শুরুতে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
মতামত দিন